ফলের নাম রানী ক্লোড


পশ্চিম ইউরোপে সেপ্টেম্বরের শুরুতেই বাজারে হরেক রকম ফলের সাথে সবুজ অথবা খানিকটা হলুদাভ একটি ফল, খুব টসটসে এবং মিষ্টি, এক ধরণের আলুবোখারার আবির্ভাব ঘটে। ফরাসিরা নাম দিয়েছে রেন- ক্লোড (Reine-Claude) বা রানী ক্লোড, ইংরেজরা বলে গ্রিনগেজ (Greengage)। উদ্ভিদবিজ্ঞানীরা নাম দিয়েছে Prunus domestica। তা যে নামেই ডাকা হোক, স্বাদ কিন্তু একই। নামকরণের আবার একটু ইতিহাস আছে। ষোড়শ শতাব্দীতে উদ্ভিদ বিজ্ঞানী পিয়ার বেলন (Pierre Belon) প্রথম এমন ফলের গাছটি শনাক্ত করেন। তিনি তৎকালীন রাজা প্রথম ফ্রাঁসোয়ার স্ত্রী, রাজমহিষীর নামানুসারে নামকরণ করেন। আসলে কুষ্ঠি ঘাটলে দেখা যায় যে এ ফলের আদি নিবাস সেই ইরানে। প্রতিটি ফলের ওজন ৩০-৪০ গ্রাম হয়ে থাকে।
উৎসাহীরা এ ফলের রস ঘন করে নানাভাবে, নানা খাবারে ব্যবহার করে। জ্যাম, জেলিতো আছেই আর নানা রকম মুখরোচক পিঠা পুলির কথা আজ না হয় উহ্য থাকলো।

বিষণ্ণ ইতিহাস:
তবে যখনি এমন রসে টইটুম্বুর মিষ্টি ফলটি হাতে নেই তখনি সেই বয়সে নবীন রানীর কথা মনে পরে। মনটা বিষন্ন হয়। কারণ যিনি এই নামের মধ্যে আজও বেঁচে আছেন সেই রাজমহিষীর খানিকটা বিষণ্ণ ইতিহাস আছে। আজ থেকে ঠিক ৫১৯ বছর আগে অর্থাৎ ১৩ অক্টোবর ১৪৯৯ তারিখে রানী ক্লোড জন্ম নিয়েছিলেন। নাম ক্লোড, ফ্রান্সের ক্লোড (Claude de France) তিনি ছিলেন ফ্রান্সের রাজা প্রথম ফ্রাঁসোয়া (François 1er)-র প্রথম স্ত্রী। এ বেচারী মাত্র ২৪ বছর বয়সে দেহত্যাগ করেছিলেন। প্রথম সন্তানের মা হন মাত্র সাড়ে পনোরো বছর বয়সে। তারপর আর বিরতি না দিয়ে, প্রায় প্রতি বছরই সন্তান প্রসব করেছেন। দশ বছরের বিবাহিত জীবনে অতটুকুন বয়সেই পৃথিবীকে উপহার দিয়ে গিয়েছেন মোট সাতটি সন্তান।
আলুবোখারা

ষোড়শ শতাব্দীতে ফ্রান্সের রাজা প্রথম ফ্রাঁসোয়া ছিলেন একজন দাপুটে রাজা। দুর্দান্ত প্রতাপে রাজ্য শাসন করতেন। তিনিই প্রথম রাজ্য জুড়ে আইন করে সব আঞ্চলিক ভাষা নিষিদ্ধ করে সেই ১৫৩৯ সাল থেকে ফরাসি ভাষাকে ফ্রান্সের দাপ্তরিক অর্থাৎ সরকারি ভাষা ঘোষণা করেন। তিনি কঠোর ভাবে এ আইন প্রয়োগ করছিলেন এবং শ্রুতি আছে কোনো কোনো বিদ্রোহী যারা তাঁর এ আইনের বিরোধিতা করেছিলেন তাদের কারো কারো জিহ্বা কর্তনের মতো নির্মম কাজটি করতেও রাজার অনুচররা দ্বিধা করেনি। ফরাসিরা তাদের মুখের ভিতরে লুকিয়ে থাকা রসনা আস্বাদনের মোক্ষম অঙ্গ জিহ্বা হারাবার ভয়ে ফরাসি ভাষায় তাদের জবান খুলে দেন। আজ ফরাসি ভাষা বিশ্বে পঞ্চম স্থান দখল করে আছে। সে আরেক ইতিহাস।

No comments:

Post a Comment