শীতের মৌসুমি ফুল ন্যাস্টারশিয়াম

শীতের মৌসুমি ফুল ন্যাস্টারশিয়াম
শীতের মৌসুমি ফুল ন্যাস্টারশিয়াম বীরুৎ জাতীয় উদ্ভিদ। এই লতানো ফুলের গাছ দেখতে অনেকটাই থানকুনির মতো। Tropaeclaceae পরিবারের এই উদ্ভিদের বৈজ্ঞানিক নাম Tropaeclum majus. স্থানভেদে এটি Monks cress, Indian Cresses বা Garden nasturtium নামেও পরিচিত। আদি নিবাস পেরু ও মেক্সিকো।
ন্যাস্টারশিয়াম ফুল
উদ্ভিদ লতানো। কাণ্ড সরু ও দুর্বল। পাতার বোঁটা লম্বা হয়। পত্রফলক গোলাকৃতির। গঠনের দিক থেকে থানকুনি বা পদ্মপাতার মতো। লম্বা ও খাটো উভয় ধরনের উদ্ভিদ রয়েছে। বেঁটে জাতের উদ্ভিদকে টবে চাষ করা হয়। লাল, কমলা, ফিকে হলুদ ছাড়াও আরো বিভিন্ন একক বা মিশ্ররঙের ফুল হয়। সুন্দর, বড়সড় আকারের উজ্জ্বল ফুলগুলো পাঁচ পাপড়ির। পৃথিবীজুড়ে বর্ষজীবী ও বহু বর্ষজীবী মিলিয়ে ন্যাস্টারশিয়ামের প্রায় ৮০ টি প্রজাতি রয়েছে। এর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য জাত হলো লুসিফার, স্পীট ফায়ার, এট্রোপারফোরিয়াম, গোল্ড কিং, কিং অব টম থাম্বস ইত্যাদি।
ন্যাস্টারশিয়াম ফুল
বীজ থেকে চারা হয়। বীজ সরাসরি বোনা যায়। রোদযুক্ত জমি চাষের উপযোগী। আড়াই থেকে তিন মাসে ফুল দেয়। ঝোপালো গাছের ফুল ও বীজ ইঁদুরের খাদ্য। এর পাতা অনেক অঞ্চলের মানুষ সালাদ হিসেবে খেয়ে থাকে। আয়ুর্বেদিক ঔষধ তৈরিতে এর ব্যবহার লক্ষণীয়। বুকের ঠান্ডা নিরাময়ে এবং রক্তের নতুন কোষ তৈরিতে এটা উপকারী বলে মনে করা হয়। পরিপাকতন্ত্র এবং মূত্রথলি সংক্রমণের আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায়ও এটি ব্যবহৃত হয়।
লম্বা লতানো এই উদ্ভিদকে বেড়ার সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে ব্যবহার করা যেতে পারে। তাছাড়া ঝুলন্ত টবে লতিয়ে ফুল ফোটাতে চাইলে বেছে নিতে পারেন শীতসুন্দরী ন্যাস্টারশিয়ামকে।

No comments:

Post a Comment