অর্জুন গাছের ছাল ব্যবহারের ১৫টি অজানা উপকারিতা

অর্জুন গাছের ছাল ব্যবহারের ১৫টি অজানা উপকারিতা
একটা কথা বাড়ির বড়দের মুখে আমরা অনেকেই শুনেছি হয়তো। সেটা হল, বাড়িতে একটা অর্জুন গাছ থাকা মানে নাকি একজন ডাক্তারের বাড়িতে থাকা। এটি কিন্তু একদমই বাড়িয়ে বলা নয়। আমাদের আয়ুর্বেদ শাস্ত্রেও এই অর্জুন গাছকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ওষধি গাছ হিসেবে দেখা হয়েছে। অর্জুন গাছে ছাল ব্যবহার করে আমরা অনেক রোগের থেকে উপশম পেটে পারি। আজ আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করব ঠিক কী কী রোগের থেকে অর্জুন গাছের ছাল ব্যবহার করে আমরা ভালো থাকতে পারি।

কেন অর্জুন গাছে ছাল উপকারী : 
অর্জুন গাছের ছালে আছে ক্যালসিয়াম আর ম্যাগনেসিয়াম। এ ছাড়াও এতে আছে গ্লুকোসাইড। এর পাশাপাশি এতে আছে ভিটামিন ই আর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট উপাদান। অর্জুন গাছের ছালে আছে অনেক খনিজ উপাদান, যা আপনাকে অনেক সমস্যা থেকে সরাসরি মুক্তি দেবে।

কী কী রোগ থেকে মুক্তি দেয়: নানান রোগের থেকে মুক্তির পাশাপাশি অর্জুন গাছের ছাল ত্বক ও চুলের যত্ন নিতেও ব্যবহার করা যেতে পারে। আজ এর নানান গুনাগুন সম্পর্কে জেনে নিন।

১. অ্যাজমা রোগের ওষুধ: অ্যাজমার ক্ষেত্রে কিন্তু অর্জুন গাছের ছাল অসাধারণ উপকার দেয়। আপনি যদি অর্জুন গাছের ছাল গুঁড়ো করে দুধে মিশিয়ে খেতে পারেন নিয়মিত তাহলে এই অ্যাজমার সমস্যা অনেক কমে যাবে।

২. হৃদরোগ থেকে দূরে রাখে: অর্জুন গাছের ছাল কিন্তু হার্টের সমস্যার খুব ভালো কাজ দেয়। এটি কার্ডিয়াক মাসল শক্তিশালী করে। হার্টের মধ্যে রক্ত সঞ্চালন ভালো রাখে। করোনারি হার্টের রোগ হতে দেয় না। অর্জুন গাছের ছাল সারা রাত জলে ভিজিয়ে পরের দিন বেটে দুধে মিশিয়ে খান। আর তা না হলে ছাল গুঁড়ো করে দুধে মিশিয়ে খেলেই হবে।

৩. ত্বকের পরিচর্যায়: ত্বকের জন্য এই অর্জুন গাছের ছাল উপকারী আমরা জানিও না হয়তো, আমাদের ত্বকের জন্য এই অর্জুন গাছের ছাল কতটা উপকারী। এটি ভিতর থেকে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়, ত্বকের কোষ মজবুত করে। অর্জুন গাছের ছাল মধুর সঙ্গে মিশিয়ে ব্রণের উপর লাগালে তা কমে যায়। আবার আপনি যদি এই ছালের সঙ্গে মধু মিশিয়ে ব্যবহার করলে মেচেতার দাগও কমে যায়। অর্জুন গাছের ছাল ফেস প্যাক হিসেবে অনেকে নিয়মিত ব্যবহার করে থাকেন।

৪. ক্ষত হলে ব্যবহার করা যায়:  অনেক সময়ে আমাদের খোস পাঁচড়া হয়ে থাকে। আর কিছুতেই এগুলি কমতে চায় না। তখন অর্জুন গাছের ছাল ব্যবহার করুন। অর্জুন গাছের ছাল রাতে জলে ভিজিয়ে রাখুন। এই জল দিয়ে পরের দিন জায়গাটা ভালো করে ধুয়ে নিন। তারপর অর্জুন গাছের ছালের গুঁড়ো জলে মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে ওই জায়গায় লাগান। ১৫ মিনিট রেখে দিন, তারপর ধুয়ে ফেলুন। এতে উপকার পাবেনই।

৫. আমাশয় মুক্তি দেয়: আমাশয় হলে আমরা খুবই কষ্ট পাই। পেট সব সময়ে ভার হয়ে থাকে আর নাভির কাছে যন্ত্রণা করে। কিছুই খেতে ইচ্ছে হয় না। আমাশয় হলে আপনি অর্জুন গাছের ছালের ক্কাথ ছাগলের দুধে মিশিয়ে খান। এতে আমাশয়ের সমস্যা কমে যাবে।

৬. হজম ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে: আমাদের বাঙালিদের প্রধান সমস্যা কিন্তু এটিই। আর এই হজমের সমস্যা থেকেই গ্যাস, অম্বল আরও কত কী! কিন্তু অনেক ওষুধ খেয়েও এই সমস্যা কমে না। এবার অর্জুন গাছের ছালে বিশ্বাস রেখে দেখুন। রোজ রাতে শুতে যাওয়ার আগে হাল্কা গরম জলে অর্জুন গাছের ছাল গুঁড়ো মিশিয়ে খেয়ে নিন। এটি রোজ রাতে খান নিয়ম করে। এতে আপনার হজম ক্ষমতা বাড়বে।

৭. মাড়ির সমস্যা হয় না: মাড়ি থেকে রক্ত পড়া খুব সাধারণ সমস্যা। অনেক সময়ে মাড়ি ফুলে যায়, লাল হয়ে যায়। তখন খুব ব্যথা করে। অর্জুন গাছের ছালে আছে ট্যানিন। তাই এই ছাল মাড়ির সমস্যা থেকেও আপনাকে মুক্তি দেবে। অর্জুন গাছের ছাল গুঁড়ো করে মাজনের মতো ব্যবহার করুন রোজ সকালে। তাহলেই উপকার পাবেন।

৮. বুক ধড়ফড় করলে: অনেক সময়েই আমাদের বুক ধড়ফড় করে। দূর থেকে হেঁটে আসলে বা খুব চিন্তায় পড়ে গেলে আমাদের বুক ধড়ফড় হয়। সেই সময়েও আমাদের সাহায্য করতে পারে অর্জুনের ছাল। ছাল শুকিয়ে নিয়ে দুধের সঙ্গে মিলিয়ে রোজ বিকেলে খান। তবে একটু ঠাণ্ডা করে খাবেন। এতে এই সমস্যা কমবে।

৯. যৌন উদ্দীপনা বাড়ায়: ববি দেওয়াল অভিনয় করছেন
বিবাহিত দম্পতিদের ক্ষেত্রে যৌন উদ্দীপনার অভাব কিন্তু একটি গুরুতর সমস্যা। অনেক সময়ে অনেক টাকা ব্যয় করে চিকিৎসা করতে হয় এর। কিন্তু জানেন কী, অর্জুন গাছের ছাল এই সমস্যা থেকেও রেহাই দেয়! এই ছালে আছে স্যাপোনিন, যা যৌন ক্ষমতা বাড়ায়। আর পুরুষদের ক্ষেত্রে শুক্র কম থাকলে অর্জুনের ছাল গুঁড়ো করে তা গরম জলে মিশিয়ে সেই জল ছেঁকে তার মধ্যে ১ চামচ শ্বেত চন্দন মিশিয়ে খান। এটি অসাধারণ কাজ দেয়।

১০. রক্তপিত্ত: অনেক সময়েই আমাদের রক্তপিত্ত হতে দেখা যায়। তখন আমরা খুবই ভয় পাই। কিন্তু এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। অনেক সময়ে শরীর অতিরিক্ত গরম হয়ে গেলে এটি হতেই পারে। তখন অর্জুনের ছালই আপনাকে রেহাই দেবে। আগের দিন জলে এই ছাল ভিজিয়ে রাখুন। তারপর সেই জল পরের দিন সকালে ছেঁকে খেয়ে নিন। রোজ সকালে খান এটি। আপনি উপকার পাবেনই।

১১. কাশি কমাতে: অনেক সময়েই কারণ নেই, আমাদের খুব কাশি হতে শুরু করে। একে অনেক সময়ে ক্ষয় কাশিও বলা হয়। এর জন্যও সাহায্য নিন অর্জুন গাছের। অর্জুন গাছের ছাল বাসক পাতার রসে ভিজিয়ে রাখুন। তারপর তা শুকিয়ে গুঁড়ো করে রেখে দিন। খুব কাশি হলে মধু বা মিছরির সঙ্গে খেয়ে নিন। আপনি এতে সহজেই উপকার পাবেন।

১২. লিভারের সমস্যায়: লিভার ভালো থাকা আমাদের শরীরের জন্য খুব দরকার। ডাক্তাররা বলেন, লিভার ভালো থাকলে নাকি অনেক সমস্যার সমাধান হয়। কিন্তু সেই লিভারও তো অনেক সময়ে ঠিক মতো কাজ করে না। তাই লিভার সুস্থ রাখতে অর্জুন গাছের ছাল ব্যবহার করুন। অর্জুন গাছের ছালের গুঁড়ো জলে ভিজিয়ে রাখতে হবে। পরের দিন সেই জল খেতে হবে। এটি লিভারসিরোসিসের টনিক হিসেবে কাজ করে।

১৩. ঋতুস্রাবের সমস্যায়: অনেক সময়েই মেয়েদের অনিয়মিত ঋতুস্রাব হয়। আর তার ফলেই পেটে ব্যথা, বমি বমি ভাব এই সব হয়। আবার নিয়মিত ঋতুস্রাব হলেও এই সমস্যা যে হয় না তা নয়। আর এই ব্যথা কমানোর জন্য মেয়েরা সাধারণত কোনও ওষুধ খেতে চান না। তখন আপনি এই অর্জুন গাছের ছাল ব্যবহার করতে পারেন। হাল্কা গরম জলে অর্জুন গাছের ছালের গুঁড়ো মিশিয়ে নিয়ে খেয়ে নিন যখন খুব ব্যথা হবে। খানিক পর দেখবেন ব্যথা অনেক কমে এসেছে।

১৪. ক্যানসার প্রতিরোধে: গবেষণা করে দেখা গেছে, অর্জুন গাছের ছালে আছে গ্যালিক অ্যাসিড আর লুটেনোনিন। এই দুটি উপাদান ক্যানসারের কোষের বৃদ্ধি কমায়। তাই যদি আপনি নিয়ম করে এই ছাল ব্যবহার করেন তাহলে কিন্তু ক্যানসারের থেকে দূরে থাকতে পারবেন। সপ্তাহে দু দিন শুধু শুতে যাওয়ার আগে দুধে অর্জুন গাছের ছাল গুঁড়ো করে মিশিয়ে খেয়ে নিন। এতে উপকার পাবেন।

১৫. হাড় মচকে গেলে: চলতে চলতে অসাবধানতা বশত আপনার পায়ে চোট লাগতে পারে। সেখান থেকে হাড় মচকে যাওয়া বা চিড় খাওয়া খুবই স্বাভাবিক। এ ক্ষেত্রে অর্জুন গাছের ছাল বেটে তার সঙ্গে রসুন বাটা মিশিয়ে ওই ব্যথার জায়গার লাগিয়ে রাখুন। তার সঙ্গে রোজ রাতে অল্প দুধের সঙ্গে এই অর্জুন গাছের ছালের গুঁড়ো মিশিয়ে খান। এটি সত্যি খুব ভালো কাজ দেবে।

এবার বুঝলেন তো, কেন বলেছিলাম, বাড়িতে অর্জুন গাছ থাকা মানে একজন ডাক্তার থাকা। আপনার বাড়িতে যদি অর্জুন গাছ নাও থাকে, অর্জুন গাছের ছাল হাতের কাছে রাখুন আর সব সমস্যা থেকে সমাধান পান।

No comments:

Post a Comment