আদার ১৩ গুনাগুন

আদার ১৩ গুনাগুন
রান্নাবান্নার জন্য একটি উৎকৃষ্ট উপাদান আদা। আদা বলতে আমরা সবাই রান্নার মসলা হিসেবে চিনে থাকি। কিন্তু আদা যে শুধু রান্নার স্বাদ ও ঘ্রাণ বাড়ানোর মসলা জাতীয় ছাড়াও, আরও কিছু গুনে ভরপুর। তা এখন আর অজানা নয়। আদার ঔষধি গুণাগুণ সম্পর্কে প্রায় সকলেই বেশ ভালোভাবেই জানি কমবেশি। শারীরিক নানা সমস্যায় আদা, সেই সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে। এবং এর মধ্য খুব দ্রুতই সুস্থ করার ক্ষমতা বিদ্যমান আছে। এমনকি নিয়মিত আদা খাওয়ার অভ্যাস মুক্তি দিতে পারে মারাত্মক বেশ কিছু রোগ থেকে।

নিয়মিত আদা খাওয়ার অভ্যাস করেই দেখুন না, শারীরিক অনেক সমস্যার সমাধান পাবেন। আর এজন্যই আদার গুণাগুণ এবং শারীরিক সমস্যা নিরাময়ে আদার ব্যবহার সকলেরই জেনে রাখা অত্যন্ত জরুরী। তাহলে চলুন আদার কিছু উপকারিতার কথা জেনে নেই।

১. হজমের সমস্যা রোধে: 
রক্তের অনুচক্রিকা এবং হৃদযন্ত্রের কার্যক্রম ঠিক রাখতেও আদা দারুণ কার্যকর। মুখের রুচি বাড়াতে ও বদহজম রোধে আদা শুকিয়ে খেলে বাড়বে হজম শক্তি। আদার মধ্যে ডাইজেসটিভ ট্রাক্টের প্রদাহ কমানোর ক্ষমতা রয়েছে। এটি পাচক রস নিঃসরণ করতে সাহায্য করে। এতে খাবার ও পানি খুব সহজে পেটে নড়াচড়া করতে পারে।

২. বমি রোধে:
অনেক সময় আমাদের দেহে অস্থিরতা কাজ করে, তখন কোন কিছু খেতে ইচ্ছা করে না। বমি বমিভাব বা বমি হয়ে যায়। এমন সময় আপনি যদি আদা কুচি করে চিবিয়ে খান অথবা আদার রসের সাথে সামান্য লবণ মিশিয়ে পান করেন। তাহলে তাৎক্ষণিক সমাধান পেয়ে যাবেন। গর্ভবতী মায়েদের সকালবেলা, বিশেষ করে গর্ভধারণের প্রথম দিকে সকালবেলা শরীর খারাপ লাগে। এই সমস্যা কাঁচা আদা দূর করবে অনায়সে। কারন গর্ভাবস্থায় বমি কমাতে আদা খুবই উপকারী। এ ছাড়া মর্নিং সিকনেস প্রতিরোধেও এটি কার্যকর।

৩. ক্ষতস্থান পূরণ করতে:
দেহের কোথাও ক্ষতস্থান থাকলে তা দ্রুত শুকাতে সাহায্য করে আদা। এতে রয়েছে অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরি এজেন্ট, যা যেকোনো কাটাছেঁড়া, ক্ষতস্থান দ্রুত ভালো করে। পেশি ব্যথায় আদা কার্যকর। আদা ২৫ ভাগ পেশির ব্যথা কমাতে কাজ করে।

৪. প্রদাহ প্রতিরোধে:
আদার উপকারিতা অনেক। প্রদাহ প্রতিরোধে এর গুনাগুন তো বলেই শেষ করা যাবে না। ২৪৭ জনের একদল লোকের উপর একটি গবেষণা করে দেখা গেছে, আদা খুব দ্রুত গাঁটের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে এবং গাঁটের ক্ষয় রোধে সাহায্য করে।

৫। কোলেস্টেরলের মাত্রা কমতে:
৮৫ জনের ওপর করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন মাত্র তিন গ্রাম আদার গুঁড়ো খেলে শরীরের বাজে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে যায়। এতে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে। মাইগ্রেনের ব্যথা ও ডায়াবেটিস জনিত কিডনির জটিলতা দূর করে আদা।

৬। হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়:
আদার রস শরীর শীতল করে এবং হার্টের জন্য উপকারী। প্রতিদিন মাত্র ২ গ্রাম আদার গুঁড়ো ১২ সপ্তাহ ধরে খেলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি ১০ ভাগ কমে। পাশাপাশি হৃদরোগের ঝুঁকিও কমে ১০ ভাগ।

৭। আদা ক্যানসাররোধী:
আদার মধ্যে রয়েছে ক্যানসার প্রতিরোধক উপাদান। এটি কোলনের ক্যানসার কোষ ধ্বংস করতে সাহায্য করে। ওভারির ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই করে আদা। সুতরাং ক্যান্সার এর অনেক ভাল প্রতিরোধক।

৮। মস্তিষ্কের কার্যক্রম ভালো করে:
আদার মধ্যে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও বায়োঅ্যাকটিভ উপাদান মস্তিষ্কের অকালবার্ধক্য কমাতে সাহায্য করে। এতে স্মৃতিশক্তি বাড়ে। তাই স্মৃতি বাড়াতে আদার কার্যকারী অনেক।

৯। রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতায়:
আদা দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। গবেষণায় দেখা গেছে, আদার রস দাঁতের মাড়িকে শক্ত করে, দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা জীবাণুকে ধ্বংস করে। এছাড়া যারা গলার চর্চা করেন তাদের গলা পরিষ্কার রাখার জন্য আদা খুবই উপকারী।

১০। পেটের রোগ নিরাময়ে:
আমাশয়, জন্ডিস, পেট ফাঁপা রোধে আদা চিবিয়ে বা রস করে খেলে উপকার পাওয়া যায়।

১১। সর্দি-কাশি দূর করতে:
ঠান্ডায় আদা ভীষণ উপকারী। এতে রয়েছে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এজেন্ট, যা শরীরের রোগ-জীবাণুকে ধ্বংস করে। জ্বর জ্বর ভাব, গলাব্যথা ও মাথাব্যথা দূর করতে সাহায্য করে। এছাড়াও ঠান্ডায় টনসিলাইটিস, মাথাব্যথা, টাইফয়েড জ্বর, নাক দিয়ে পানি পড়া, নাক বন্ধ হওয়া, বসন্তকে দূরে ঠেলে দেয় আদা। কাশি এবং হাঁপানির জন্য আদার রসের সাথে মধু মিশিয়ে সেবন করলে বেশ উপশম হয়।

১২। জয়েন্টে ব্যথা দূর করতে:
হাতে পায়ের জয়েন্টে ব্যথা হলে সাহায্য নিতে পারেন আদার তেলের। খানিকটা অলিভ অয়েলে আদা ছেঁচে নিয়ে ফুটিয়ে নিন ৫ মিনিট। ঠাণ্ডা হলে ছেঁকে এই তেল দিয়ে ম্যাসাজ করুন হাতে পায়ের জয়েন্টে। আদার অ্যান্টিইনফ্লেমেটরি উপাদান দূর করে দেবে ব্যথা। তবে রান্না করার চেয়ে কাঁচা আদার পুষ্টিগুণ বেশি।

১৩। পেটের মেদ কমাতে আদা ও লেবু:
আদা ও লেবুর মিশ্রণ আপনার ওজন কমিয়ে আনবে যাদুকরী উপায়ে। প্রথমে আদার ছোট ছোট টুকরা করে আধা ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। তারপর সেই পানির সাথে আরও পানি মিশিয়ে একটি সম্পূর্ণ লেবু কয়েক টুকরা করে পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। তারপর দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করুন। এরপর সারাদিন এই পানি প্রতি ঘণ্টায় ঘণ্টায় পান করুন। এতে আপনার ওজন কমার পাশাপাশি শরীরও ডিটক্স থাকবে।

No comments:

Post a Comment