পায়ে ঘাম হয়, মোজায় দুর্গন্ধ! কী করবেন?

পায়ে ঘাম হয়, মোজায় দুর্গন্ধ! কী করবেন?
শীতকালে অনেকের পা ঘামে। তাই জুতো পরার উপায় নেই। আর জুতো পরলে খোলার উপায় নেই। কারণ, জুতো খুললেই প্রচণ্ড দুর্গন্ধ, মোজায় ভেজা ভেজা বা চটচটে ভাব। এটি খুবই অস্বস্তিকর একটি সমস্যা।

শীতকাল এলে অনেকেরই হাত, পা অতিরিক্ত মাত্রায় ঘামতে শুরু করে। আর ঘামে ভিজে থাকা পায়ে দ্রুত ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে শুরু করে। এই ব্যাকটেরিয়ার প্রভাবেই পায়ে বিশ্রী দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়। যাঁরা এই সমস্যায় ভোগেন, তাঁদের অনেকেই মোজায় পাউডার বা পারফিউম দিয়ে ব্যবহার করেন। কিন্তু তাতেও খুব একটা লাভ হয় না। তবে ঘরোয়া উপায়ে এই অস্বস্তিকর সমস্যা থেকে সহজেই মুক্তি পাওয়া সম্ভব। আসুন এ বিষয়ে সবিস্তারে জেনে নেওয়া যাক-

লবন জলের ব্যবহার: লবন জল পায়ে ছত্রাক বা ফাঙ্গাসের আক্রমণ ঠেকাতে সাহায্য করে। নিয়মিত লবন জলের ব্যবহারে অতিরিক্ত মাত্রায় পা ঘেমে যাওয়ার সমস্যাও অনেকটাই কমে যায়। এর জন্য প্রতিদিন বাড়িতে ফিরে সামান্য উষ্ণ জলেতে আন্দাজ মতো লবন মিশিয়ে তাতে অন্তত মিনিট কুড়ি পা ডুবিয়ে রাখুন। পা ঘামার সমস্যা দূর হবে, একই সঙ্গে আপনার পা ছত্রাকের আক্রমণ থেকেও রেহাই পাবে।

বেকিং সোডার ব্যবহার: পায়ের অতিরিক্ত ঘাম আর তার থেকে হওয়া দুর্গন্ধের হাত থেকে রক্ষা পেতে কাজে লাগাতে পারেন বেকিং সোডা। বেকিং সোডার অ্যাসিডিক উপাদান পা পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করে এবং পায়ে ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে দেয় না। এর ফলে পা অতিরিক্ত ঘেমে যাওয়া বা পায়ে বিশ্রী দুর্গন্ধ হওয়ার সমস্যা আর থাকে না। এর জন্য প্রথমে পা দু’টো ভাল করে পরিষ্কার করে, পায়ে সামান্য বেকিং সোডা ভাল করে ঘষে নিন। এর ফলে পায়ে অতিরিক্ত ঘাম হওয়া বন্ধ হবে। চাইলে জুতোর মধ্যেও খানিকটা বেকিং সোডা ছড়িয়ে নিতে পারেন। এতেও উপকার পাবেন।

পায়ে অতিরিক্ত ঘাম আর দুর্গন্ধ হওয়ার হাত থেকে বাঁচতে হলে আরও কয়েকটি নিয়ম মেনে চলা জরুরি। যেমন-
১) সুতির মোজা ব্যবহার করুন।
২) নিয়মিত পা পরিষ্কার রাখুন। বাইরে থেকে ঘরে ফিরে গরম জলে একটু লবন ফেলে ভাল করে পা ধুয়ে নিন।
৩) যাঁদের এমন সমস্যা হয়, তাঁদের ঘন ঘন চা বা কফি না খাওয়াই ভাল।
৪) স্পাইসি বা মশলাদার খাবার-দাবার এড়িয়ে চলুন।
৫) মাঝে মধ্যে জুতো গুলোকে রোদে দিন।
৬) ভাল করে পা মুছে, ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন।
৭) সপ্তাহে অন্তত একবার জুতোর ভিতরে সুগন্ধি পাউডার দিয়ে, ভাল করে কাপড় দিয়ে মুছে নিন।
৮) একই মোজা দুদিনে ব্যবহার করবেন না।

No comments:

Post a Comment