ঢোল কলমি উদ্ভিদের ভেষজ গুণ

ঢোল কলমি উদ্ভিদের ভেষজ গুণ
গ্রামাঞ্চলে এই গাছ ফসলের ক্ষেত, পুকুর ও বসতবাড়ির চার পাশে বেড়ার প্রধান উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করতে দেখা যায়। কেউ কেউ কলমি গাছের সাথে নেট ও বাঁশের চটা ব্যবহার করে বেড়াকে শক্তিশালী করেন। অনেকেই অতিরিক্ত অংশ রান্নার কাজে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করে। ঢোল কলমির বীজ ও পাতায় বিষাক্ত উপাদান থাকে। পাতা বৃন্ত থেকে ছিঁড়লে তেতো স্বাদের সাদা কষ থাকায় এর পাতা গরু ছাগল খায় না।

হাওরে কিংবা বিশাল ফসলের মাঠে ঢোল কলমি জন্মে পাখির বসার জায়গা করে দেয়। এ গাছে বসে পাখি পোকামাকড় খায়। ফুলের মধু সংগ্রহ করতে কালো ভোমরার আনাগোনা দেথা যায়। ঢোল কলমির বীজ ও কাণ্ড থেকে নতুন গাছ জন্মায়। খরা ও বন্যা এবং লবণাক্ত পরিবেশে সহনীয় বলে ঢোল কলমি প্রতিকূল পরিবেশেও টিকে থাকতে পারে এবং সহজেই বংশবৃদ্ধি করে। ফলে ঢোল কলমী নদী/সড়ক ভাঙ্গন রোধে খুবই কার্যকরী। বাংলাদেশের দ্বীপ বেষ্টিত গাবুরা ইউনিয়নে যততত্র প্রাকৃতিক বেড়া হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে ঢোল কলমি।

এটা আমাদের খাদ্য তালিকায় না থাকলেও এই উদ্ভিদের ভেষজগুণ আছে।
ঢোল কলমির পাতা পুড়িয়ে সেটি তিলের তেলের সাথে মিশিয়ে দাদে প্রলেপ দিলে দাদ ভালো হয়।
কুকুর কামড়ালে ঢোল কলমির পাতা বেটে কামড়ানোর জায়গায় প্রলেপ দিলে কুকুরের বিষ নাশ হয়।
❏ ঢোল কলমির পাতা পিষে এই ক্বাথ হালকা গরম করে চাল ধোঁয়া পানির সাথে মিশিয়ে খেলে রক্তার্শ্বে উপকার পাওয়া যায়।
❏ ঢোলপাতার মূল পানির সাথে বেটে খেলে বিসূচিকায় ভালো ফল পাওয়া যায়।
❏ ফোঁড়া হলে ফোঁড়ার ভিতর থেকে সব পুঁজ বের করার জন্য ঢোল কলমির পাতা আতপ চালের সাথে বেটে ফোঁড়ার মুখ বাদ দিয়ে চারপাশে লাগালে ফোঁড়া দ্রুত ফেটে সব পুঁজ বেরিয়ে আসবে।
❏ এর পাতার গুড়া জমিতে অতিরিক্ত শামুক নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবহৃত হয়। এর পাতা সিদ্ধ পানি পোকামাকড় নিয়ন্ত্রনে কার্যকর প্রমানিত হয়েছে। এই নিয়ে কিছু গবেষনাও হচ্ছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহে।

গুজবঃ ১৯৮৭ সালে ঢোল কলমি পোকার কামড়ে প্রায় ২০ জন লোক মারা গিয়েছিল সারা দেশে। পরে পরীক্ষাগারে দেখা গেল ঢোল কলমি পোকার কামড় দিয়ে মানুষ মারার ক্ষমতাই নেই। সবটা ছিল ফোবিয়া, বাংলায় যাকে বলে কোনো বিষয়ে মানুষের চূড়ান্ত ভীতি। সংবাদপত্র সেখানে সহযোগী হয়েছিল।

তাতেও ঠেকানো যায়নি এর ব্যাপক বিস্তার। কোনোরকমে একটু মাটির ছোঁয়া পেলেই বেড়ে ওঠে ঢোল কলমি। এত যে অকাজের ঢোল কলমি, তার ফুলটা কিন্তু দারুণ সুন্দর।

No comments:

Post a Comment